শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান

মার্কিন জাহাজে ইরানের পাল্টা হামলা

ইরানের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জব্দ করার পর এবার মার্কিন জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সোমবার এই তথ্য জানানো হয়েছে। ওমান উপসাগরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনা নতুন করে চরম রূপ নিয়েছে।

ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী ‍‍`টোসকা‍‍` নামের একটি কন্টেইনার জাহাজে অবৈধভাবে আরোহণ ও তা দখলের পরপরই ইরান পাল্টা জবাব দিতে ড্রোন মোতায়েন করে। 

যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক জাহাজকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হলেও সেগুলো সামরিক নাকি বাণিজ্যিক জাহাজ ছিল তা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছিল যে, ওমান উপসাগরে নৌ-অবরোধ ভাঙার অভিযোগে ইউএসএস স্প্রুয়ান্স যুদ্ধজাহাজ ইরানি পতাকাবাহী জাহাজটিকে আটকে দেয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা গেছে, ১২ এপ্রিল মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করা টোসকা জাহাজটি ইরানের বন্দর আব্বাসের দিকে যাচ্ছিল। সেন্টকম দাবি করেছে, বারবার সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও জাহাজটি থামতে অস্বীকার করায় তারা গুলি চালিয়ে এর গতিশক্তি অচল করে দেয় এবং হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে মার্কিন মেরিনরা জাহাজে নামে। বর্তমানে জাহাজটি সম্পূর্ণ মার্কিন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে এই ঘটনাকে দুই সপ্তাহের চলমান যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‍‍`সশস্ত্র জলদস্যুতা‍‍` হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, মার্কিন মেরিনরা ইরানের জাহাজে হামলা চালিয়ে এর ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা অচল করে দিয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী খুব শীঘ্রই এই আগ্রাসনের চূড়ান্ত জবাব দেবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।