এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
বাংলাদেশের বিতর্কিত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং শাহবাগ আন্দোলনের আলোচিত ব্লগার সানিউর রহমান ওরফে সত্য সাধু ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দীর্ঘকাল ভারতের উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশে ছদ্মবেশে থাকার পর উত্তরাখণ্ড পুলিশের বিশেষ ‘অপারেশন কালনামী’ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সানিউর রহমানের এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি কেবল একজন অপরাধীর ধরা পড়া নয়, বরং একজন ব্যক্তির আদর্শিক চরমপন্থা থেকে অন্য এক চরমপন্থায় বিস্ময়কর রূপান্তরের আখ্যান হিসেবে সামনে এসেছে। গ্রেপ্তারকালে তার কাছ থেকে মূল বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে, যা তার দীর্ঘদিনের সুপরিকল্পিত জালিয়াতিকে উন্মোচিত করেছে।
সানিউর রহমান মূলত ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলন পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে মুক্তচিন্তার আবরণে ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কট্টর অবস্থানের জন্য পরিচিতি পেয়েছিলেন। তসলিমা নাসরিন পরবর্তী প্রজন্মের যারা উগ্র নাস্তিকতার চর্চা শুরু করেছিলেন, সানিউর ছিলেন তাদের অন্যতম সক্রিয় প্রতিনিধি।
তবে ২০১৬ সালে নেপাল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর তিনি নিজের পরিচয় বদলে ‘সত্যনিষ্ঠা আর্য’ নাম ধারণ করেন। ঋষিকেশের সাধু সেজে তিনি অত্যন্ত স্বল্প সময়ের ব্যবধানে নাস্তিক্যবাদ ছেড়ে কট্টর হিন্দুত্ববাদী প্রচারক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার এই রূপান্তর কোনো দার্শনিক ভিত্তি থেকে নয়, বরং একটি সুবিধাবাদী রাজনৈতিক এজেন্ডা বা ব্যক্তিগত ইসলাম বিদ্বেষের ধারাবাহিকতা মাত্র।
ভারতে অবস্থানকালে সানিউর রহমান কেবল ছদ্মবেশেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং তিনি স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করেন। বিশেষ করে গাজিয়াবাদের একটি গির্জায় হামলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা এবং খ্রিষ্টান ও মুসলিমদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ তার উগ্রবাদী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের নতুন সংস্করণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের বর্তমান ধর্মীয় মেরুকরণকে কাজে লাগিয়ে তিনি দীর্ঘকাল গোয়েন্দা নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে আসছিলেন। উত্তরাখণ্ড পুলিশের এই অভিযান সীমান্ত নিরাপত্তা ও পরিচয় জালিয়াতি রোধে এক বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সানিউর রহমানের এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে উগ্রবাদ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের একচেটিয়া সম্পদ নয়, বরং ঘৃণা ও বিদ্বেষ ধারণকারী ব্যক্তি যেকোনো সময় সুবিধামতো রঙ পরিবর্তন করতে পারে। সানিউরের এই গ্রেপ্তার সেই সব অ্যাক্টিভিস্টদের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করে যারা মূলত বিদ্বেষ প্রচারের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চায়। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন সময়ে ভারতে গিয়ে স্থায়ী হওয়া এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়া ব্যক্তিদের তালিকার সঙ্গে সানিউরের এই জালিয়াতির বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো বা ভারতের প্রচলিত আইনে বিচার করার বিষয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা চলছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন