এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপের মাঝেই কৃষ্ণনগরে এক বিশাল জনসভায় যোগ দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রশংসা করেন, অন্যদিকে নিজের ঝালমুড়ি খাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে কড়া জবাব দেন বিরোধীদের।
আগামী ২৯ এপ্রিল কৃষ্ণনগরে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জনসভায় মোদি বলেন যে গত ৫০ বছরের মধ্যে এবারের নির্বাচনেই পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে কম সহিংসতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কৃষ্ণনগরের ওই সভা থেকে মোদি ভারতের নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন যে তারা পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে গণতন্ত্রের পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেছে। ভোট শান্তিপূর্ণ করার ক্ষেত্রে কমিশনের বড় কৃতিত্ব রয়েছে এবং সরকারি কর্মচারীরাও তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মোদির দাবি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন এবারে রাজ্যে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা হতে দিচ্ছে না। উল্লেখ্য যে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে সহিংসতার ইতিহাস বেশ পুরনো হলেও এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন বলে দাবি করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।বক্তব্যের এক পর্যায়ে নরেন্দ্র মোদি বেশ রসিকতার সুরে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেন যে বিজেপি জয়ী হলে রাজ্যে মিষ্টি এবং ঝালমুড়ি বিতরণ করা হবে। তিনি আরও বলেন যে ঝালমুড়ি খাওয়ার বিষয়টি অনেককে বড় ধাক্কা দিয়েছে। তাঁর ভাষায় আমি ঝালমুড়ি খেলাম আর ঝাল লাগল তৃণমূলের।
প্রসঙ্গত কয়েকদিন আগে ঝাড়গ্রাম সফরে গিয়ে স্থানীয় একটি দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তৃণমূলসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো মোদির সমালোচনা করেছিল। সেই সমালোচনার জবাব দিতেই তিনি কৃষ্ণনগরের জনসভাকে বেছে নেন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন যে মানুষ এবার পরিবর্তনের জন্য ভোট দিচ্ছে এবং তৃণমূলের দীর্ঘদিনের অপশাসনের অবসান হতে চলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে মোদির এই ঝালমুড়ি মন্তব্য মূলত তৃণমূলের সাথে চলমান কথার লড়াইয়ের একটি অংশ। ভোটের মাঠে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে এবং বিরোধীদের মনোবলে আঘাত হানতে তিনি এমন কৌশলী ও রসাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের এই প্রথম দফার ভোট চলাকালীন মোদির এমন সফর রাজনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় যে এবারের নির্বাচনে বিজেপি বাংলার ক্ষমতায় আসার বিষয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। শেষ দফার ভোট পর্যন্ত এই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন