এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে জাতীয় মজুত থেকে তেলের একটি বড় অংশ বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান। মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আগামী ১ মে থেকে এই তেল ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণা দিয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থা আনাদোলু।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প রুট থেকে তেল সংগ্রহের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এই মুহূর্তে জাতীয় মজুত ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।
জাপানের এই সিদ্ধান্তের আওতায় প্রায় ২০ দিনের অভ্যন্তরীণ চাহিদার সমপরিমাণ তেল বাজারে ছাড়া হবে। এর পরিমাণ হবে প্রায় ৫.৮ মিলিয়ন কিলোলিটার, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫৪০ বিলিয়ন ইয়েন বা ৩.৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
জাপান সরকার আশা করছে যে, মে মাসের মধ্যেই তারা তাদের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের অর্ধেকের বেশি অংশ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের বিকল্প উৎস থেকে সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে। এর ফলে বছরের শেষ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখা সহজ হবে এবং মজুত থেকে অতিরিক্ত তেল ছাড়ার প্রয়োজনীয়তাও কমে আসবে। স্থিতিশীল জ্বালানি বাজার বজায় রাখতে জাপানের ‘পেট্রোলিয়াম স্টকপাইলিং আইন’-এর ৩১ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে জাপান দীর্ঘকাল ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর জ্বালানি নির্ভর। ফলে হরমুজ প্রণালির মতো সংবেদনশীল নৌপথে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের এই তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং সরবরাহ নিয়ে ক্রেতাদের উদ্বেগ কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিকল্প উৎসের সন্ধানে জাপানকে আরও বেগ পেতে হতে পারে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই দেশটি বর্তমানে জ্বালানি বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে। লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির সংকটের পর থেকে জাপানি কোম্পানিগুলো লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার তেলের বাজারের দিকে ঝুঁকছে। আজকের এই ঘোষণা মূলত সেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই একটি অংশ, যা আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা তুলে ধরে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন