সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাজ্যের জরুরি কোবরা বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাজ্যের জরুরি কোবরা বৈঠক

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধের প্রভাব ও বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষিতে জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে যুক্তরাজ্য। আগামীকাল মঙ্গলবার এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। আজ সোমবার ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সংকটের ফলে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও সাধারণ কর্মজীবী মানুষের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, তা মোকাবিলা করতেই এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সোমবার ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তৃতায় এই বৈঠকের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার তিনি সরকারের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা কমিটি বা ‘কোবরা’ (COBRA) বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। 

এই বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত থাকবেন ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিরা। স্টারমার তাঁর বক্তৃতায় বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট সংকটে দেশের সাধারণ কর্মজীবী মানুষের পাশে থাকতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই বৈঠক থেকেই পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে তাসনিম নিউজ এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। ইরানের জাঞ্জান প্রদেশে বিপুল পরিমাণ অবিস্ফোরিত বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের সময় নিক্ষিপ্ত এসব প্রাণঘাতী অস্ত্র বিশেষ ইউনিটের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের তিনটি শক্তিশালী বাংকারবিধ্বংসী বোমাও রয়েছে, যা বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে সক্ষম ছিল।

আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তরের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই তাদের বিশেষায়িত বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিটগুলো তল্লাশি অভিযান চালায়। অভিযানে প্রায় ৯ হাজার ৫০০টিরও বেশি বোম্বলেট বা ক্ষুদ্র বোমা শনাক্ত করা হয়েছে, যা শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান থেকে ফেলা হয়েছিল। এছাড়া ৫২টি রকেট ধ্বংস করা হয়েছে এবং ১০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে আইআরজিসি। মূলত বেসামরিক এলাকাগুলো থেকে এসব অবিস্ফোরিত অস্ত্র অপসারণ করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল এই অভিযানের লক্ষ্য।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর এই জরুরি বৈঠক ডাকার পেছনে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতার শঙ্কা কাজ করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। কিয়ার স্টারমার ব্যাংক অব ইংল্যান্ডকে এই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করেছেন যে, ব্রিটেন এই যুদ্ধকে কেবল সামরিক নয় বরং একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকি হিসেবেও দেখছে। আগামীকালের কোবরা বৈঠকের পর ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো ঘোষণা আসে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্বমহল।