মে ৯, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
শনিবার বেলায় কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড ময়দানে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে উপস্থিত থাকবেন। শুক্রবার বিকেলে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করার পর সন্ধ্যায় তিনি রাজ্যপাল আর এন রভির হাতে সরকার গড়ার চিঠি তুলে দেন।
শুভেন্দু অধিকারী বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হতে চললেও তিনি কলকাতার ভবানীপুর আসন থেকে জয়ী হওয়া দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ওই আসন থেকে তিনবার জিতে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।
ঘটনাচক্রে শুভেন্দু অধিকারী একসময় মমতা ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠ সতীর্থ ছিলেন, কিন্তু পরে তিনিই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হন। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে এবং এবার ভবানীপুর আসনে তিনি মমতা ব্যানার্জীকে পরাজিত করেছেন। ভারতের অনেক গণমাধ্যম তাকে ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে অভিহিত করছে।
সোমবারের ভোট গণনায় দেখা গেছে, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়লাভ করেছে। এর মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটল। শুক্রবার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে শুভেন্দু অধিকারীকে নেতা নির্বাচন করা হয়।
বিজেপির রাজনৈতিক পূর্বসূরি জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর রাজ্যে সরকার গঠন করার স্বপ্ন দলটির দীর্ঘদিনের। ২০২১ সালে বিজেপি ৭৭টি আসন পেলেও এবার তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। গত পাঁচ বছর ধরে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থানের পাশাপাশি হিন্দু ভোট মেরুকরণ এবং অনুপ্রবেশকারী ইস্যু নিয়ে সরব ছিলেন।
পরিবর্তন শব্দটির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের যোগ রয়েছে। ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসানে মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে যে আন্দোলন হয়েছিল, সেখানে নন্দীগ্রামের কৃষক বিক্ষোভের অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। যদিও তখন তিনি পাশের কাঁথি দক্ষিণ আসনের বিধায়ক ছিলেন।
পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি শহরের বাসিন্দা শুভেন্দু অধিকারী একটি রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তার বাবা শিশির অধিকারী একসময় মেদিনীপুরের প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা ছিলেন এবং পরে তৃণমূলের হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন। বাবার পথ ধরেই শুভেন্দু অধিকারী ছাত্র রাজনীতি থেকে মূলধারার রাজনীতিতে আসেন।
২০০৬ সালে তিনি প্রথম বিধায়ক নির্বাচিত হন। ওই বছরই নন্দীগ্রামে রাসায়নিক শিল্প তালুক গড়ার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়, তা তৃণমূল স্তরে সংগঠিত করার পেছনে অধিকারীর বড় ভূমিকা ছিল। ২০০৯ সালে তিনি লোকসভা সদস্য নির্বাচিত হন। মমতা ব্যানার্জীর দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি পরিবহন মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
তবে দলে অভিষেক ব্যানার্জীর উত্থানের পর থেকেই মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। অবশেষে ২০২০ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিতভাবে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি ও শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি নিয়ে রাজপথে ও বিধানসভায় সরব ছিলেন।
শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে নারদা স্টিং অপারেশনে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৬ সালে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে তাকে দেখা গেলেও তিনি কখনোই গ্রেপ্তার হননি। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণেই কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলো তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে আজ তিনি পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন