মে ১২, ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় তেহরানের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আলোচনায় আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় এখন সামরিক বিকল্পের বিষয়টি ওয়াশিংটনের টেবিলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস ইরানের সাম্প্রতিক শান্তি প্রস্তাবটিকে `সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য` বলে অভিহিত করেছে। মূলত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধ এবং ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ট্রাম্পের হতাশার প্রধান কারণ।
ট্রাম্প মনে করছেন, এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে পরমাণু সমঝোতা বা আলোচনার ক্ষেত্রে ইরান প্রয়োজনীয় বড় কোনো ছাড় দিতে পারছে না।ট্রাম্পের ঘনিষ্ট উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় বর্তমানে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি তাদের বিবেচনায় অনেক বেশি জোরালো হয়ে উঠেছে।
ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে ফাটল থাকার কারণে তেহরান সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে বলে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর ফলে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে তেহরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরান সময়ক্ষেপণ করছে এবং আলোচনার টেবিলে কার্যকর কোনো প্রস্তাব দিচ্ছে না।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে চলমান নৌ-অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটন মনে করছে, ইরান এই সংকটকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা বা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের কর্মকাণ্ডে বিরক্ত এবং তিনি মনে করেন শক্ত অবস্থান না নিলে তেহরান তাদের আচরণ পরিবর্তন করবে না। সামরিক হামলার পাশাপাশি ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। মূলত তেহরান সরকারের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করার কৌশল হিসেবেই সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন