রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যে আচরণের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছে তেহরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ১২, ২০২৬, ০১:০১ পিএম

যে আচরণের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছে তেহরান

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলমান থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থানে এক ধরনের দ্বৈততা ও অসঙ্গতি রয়েছে। একদিকে ওয়াশিংটন আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখছে। ইরানের মতে, এই পদক্ষেপ পারস্পরিক আস্থাকে আরও দুর্বল করছে।

বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে ইরান বর্তমানে তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনার উদ্যোগ নিলেও তেহরান তা গ্রহণ করেনি। ইরানের দাবি, আলোচনার শর্তগুলো বাস্তবসম্মত বা ন্যায্য নয়। তারা মনে করছে, ওয়াশিংটন প্রকৃত সমাধানের চেয়ে চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবেই কূটনীতিকে ব্যবহার করতে চাইছে।

দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে পাকিস্তানের মাধ্যমে বিভিন্ন বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে। এসব বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রভাব বিস্তারের মনোভাব দেখা গেছে বলে ধারণা করছে ইরান। বিশেষ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে কেন্দ্র করে তেহরানে সংশয় বেড়েছে। 

ইরানি বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আলোচনা ছিল মূলত বৃহত্তর কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের একটি মাধ্যম মাত্র।সামরিক ক্ষেত্রেও একই ধরনের দ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠেছে। সংঘাতের এক পর্যায়ে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে উত্তেজনা কমেনি বলে দাবি করেছে তেহরান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের জাহাজে হামলা ও নৌ অবরোধের মতো পদক্ষেপগুলো যুদ্ধবিরতির চেতনার পরিপন্থী। তেহরানের দৃষ্টিতে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে আলোচনার কথা বললেও বাস্তবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না।

ইরান বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্থায়ী বা আংশিক যুদ্ধবিরতি এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। তেহরান এখন একটি স্থায়ী সমঝোতা এবং ভবিষ্যতে সংঘাত এড়াতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিশ্চয়তা চায়। পাশাপাশি চলমান সংঘাত ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায় স্বীকার ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও ইরান জোর দিচ্ছে।

নৌ অবরোধ প্রসঙ্গে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট। তাদের মতে, এই অবরোধ নিজেই যুদ্ধের একটি রূপ। ফলে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা কমে এলেও সামুদ্রিক উত্তেজনার মাধ্যমে সংঘাত এখনো চলমান রয়েছে বলে তারা মনে করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে। যেকোনো ধরনের শত্রুতামূলক পদক্ষেপের জবাব দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।