বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মহাবিশ্ব ও জীবনদর্শন সম্পর্কে জানালেন শি জিনপিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ১৫, ২০২৬, ০৯:৪০ এএম

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মহাবিশ্ব ও জীবনদর্শন সম্পর্কে জানালেন শি জিনপিং

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক টেম্পল অব হেভেন পরিদর্শনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং সব জীবের মধ্যে সম্প্রীতি এবং প্রকৃতির নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধার ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছেন। শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুই নেতার এই বিশেষ সফরের বিস্তারিত তথ্য ও আলোকচিত্র প্রকাশ করা হয়। বর্তমানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে অবস্থান করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সফরকালে শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে চীনের প্রাচীন জীবনদর্শন এবং মহাবিশ্ব সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেন। বিশেষ করে গোলাকার আকাশ ও চতুষ্কোণ পৃথিবীর ধারণার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি কীভাবে চীনা জনগণের চিন্তাধারাকে প্রতিফলিত করে, তা তুলে ধরেন শি। 

তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০১৭ সালে তারা বেইজিংয়ের কেন্দ্রীয় অক্ষরেখা ধরে ফরবিডেন সিটি পরিদর্শন করেছিলেন এবং বর্তমানের এই টেম্পল অব হেভেনও সেই একই সময়ের সমসাময়িক ঐতিহ্য বহন করছে।

গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এক বৈঠকের পর দুই নেতা এই ঐতিহাসিক স্থানটি পরিদর্শনে যান। বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ার ও ফরবিডেন সিটির দক্ষিণ দিকে অবস্থিত এই স্থাপনাটি মূলত আকাশ ও পৃথিবীর সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এর প্রধান স্থাপনা ছিনিয়ান হল পরিদর্শনের সময় শি জিনপিং জানান, প্রাচীন চীনের শাসকরা এখানে শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করতেন। তিনি আরও বলেন, জনগণের ভিত্তি মজবুত হলেই একটি রাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ থাকে এবং বর্তমান চীন সরকার সেই নীতিই অনুসরণ করছে।

স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে টেম্পল অব হেভেন একটি অসাধারণ নিদর্শন। এখানে লোহার পেরেক ব্যবহার না করে ঐতিহ্যবাহী কাঠের সংযোজন কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে। স্থাপনাটির তিনতলা বিশিষ্ট কাঠামো আকাশ, মানুষ ও পৃথিবীর মেলবন্ধনকে নির্দেশ করে। শি জিনপিং এই স্থাপত্যের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন, এটি কেবল একটি ভবন নয় বরং এটি চীনের গভীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের এই ধ্রুপদি স্থাপত্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি ২০১৭ সালের ফরবিডেন সিটি সফরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই অভিজ্ঞতা এখনও তার মনে উজ্জ্বল হয়ে আছে। ৬০০ বছরের পুরনো এই স্থাপনাটি দেখে তিনি মুগ্ধতা প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ই মহান রাষ্ট্র এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকা আবশ্যক।

এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে দুই নেতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছাই ছি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং বেইজিংয়ের স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে, টেম্পল অব হেভেন পরিদর্শনের আগে দুই নেতার আনুষ্ঠানিক বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা কমিয়ে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে এই সফর বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা