মে ১৫, ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শুক্রবার (১৫ মে) বেইজিংয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউস বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে যে অস্থিরতা চলছে, তা নিয়ন্ত্রণে এই জলপথটি দিয়ে জ্বালানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি বলে দুই নেতাই মনে করেন।
দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা হ্রাসের বিষয়টিই প্রাধান্য পেয়েছে।অন্তত ৩০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে তেহরান।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত রাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চীনা কোম্পানির সাথে যুক্ত জাহাজসহ বেশ কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ পারাপার হয়েছে। ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, দেশটির নৌবাহিনীর সাথে সহযোগিতা বজায় রাখলে এই জলপথ সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রাখা হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ সচল রাখতে শি জিনপিং তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সাথে চলমান যুদ্ধে ওয়াশিংটন ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ না করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বেইজিং।একই সময়ে ভারতের নয়াদিল্লিতে চলমান ব্রিকস সম্মেলনেও ইরান ইস্যুটি গুরুত্ব পেয়েছে। সেখানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানায়।
তেহরান কোনো ধরনের চাপের মুখে মাথা নত করবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তবে ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষে তৃতীয় দফা সরাসরি বৈঠক শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন এই আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এখনো বেশ জটিল।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের এক প্রকার অবিশ্বাসের মেঘ জমে আছে। একে তারা ‘প্রমিজ ফ্যাটিগ’ বা প্রতিশ্রুতি ক্লান্তি হিসেবে বর্ণনা করছেন। ফলে এবারের সম্মেলনটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিচালনা করা হয়েছে। একদিকে লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলাও থামছে না। ইসরাইল হিজবুল্লাহর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ চাইলেও লেবানন চাইছে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও সেনা প্রত্যাহার — যা এই কূটনৈতিক আলোচনার ভবিষ্যৎকে কিছুটা অনিশ্চিত করে তুলছে।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন