রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গাজায় গণহত্যা ঠেকাতে ইসরায়েলকে জাতিসংঘের কড়া বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ১৯, ২০২৬, ১১:০৩ এএম

গাজায় গণহত্যা ঠেকাতে ইসরায়েলকে জাতিসংঘের কড়া বার্তা

গাজায় গণহত্যা ঠেকাতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে জাতিগত নিধন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ১৯ মে ২০২৬ তারিখে এই বিবরণের বিস্তারিত সামনে এসেছে।

২০২৫ সালের মে পর্যন্ত গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম তদন্ত করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।এতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন করেছে। 

অনেক ক্ষেত্রে এসব কর্মকাণ্ড যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য নৃশংস অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে। একাধিক তদন্তে উঠে এসেছে যে গাজায় ইসরায়েলের এই যুদ্ধ গণহত্যার শামিল। গাজার স্বাস্থ্য  দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইসরায়েলি বাহিনী জিম্মিদের ফেরাতে কিছু পদক্ষেপ নিলেও এবং কিছু হামলায় সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলেও বহু হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণ অবৈধ ছিল।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৪০ জনকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অক্টোবর মাসে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত কিছুটা থামলেও গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এর ফলে গত সাত মাসে আরও শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সংঘাত পর্যবেক্ষকদের মতে, গত মাসে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ আরও তীব্র করা হয়েছে এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নাগরিক ও সামরিক বাহিনীর সহিংস অভিযানও বৃদ্ধি পেয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক ইসরায়েলের প্রতি সরাসরি বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড অবশ্যই প্রতিরোধ করতে হবে, বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের নিজ বাড়িতে ফিরতে দিতে হবে এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তাদের অবৈধ উপস্থিতি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের প্রধান অজিত সুনঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুদ্ধবিরতির পরও কোনো অর্থবহ জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়নি। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী দখলদারিত্বের মূল সমস্যারও কোনো মৌলিক সমাধান এখনো সূত্রপাত হয়নি।

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা