রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সমকামিতা নিয়ে পশ্চিমাদের সমালোচনা করে বরখাস্ত হলেন সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ২৩, ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

সমকামিতা নিয়ে পশ্চিমাদের সমালোচনা করে বরখাস্ত হলেন সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী

প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে

আফ আফ্রিকার দেশ সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী ওসমান সোনকোকে বরখাস্ত করে পুরো সরকার ভেঙে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে। সম্প্রতি সমকামিতা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র সমালোচনা করার পরপরই তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে Presidents-এর এক সহকারী এই ঘোষণা দিয়েছেন। 

বিদায়ী সরকারের সব মন্ত্রীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তারা কেবল দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করবেন।পশ্চিমাদের সমালোচনা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই বড় সিদ্ধান্ত এলো।

সোনকো সম্প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা বাকি বিশ্বের ওপর সমকামিতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সেনেগালে সমকামিতার অপরাধে শাস্তি আরও কঠোর করতে সম্প্রতি নতুন একটি আইনও পাস করা হয়েছে। 

এই আইন পাসের পর বিশেষ করে ফ্রান্সের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনা শুনতে হয়েছে বলে জানান সোনকো। পশ্চিমাদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তারা যদি এই পথ বেছে নিয়ে থাকে তবে সেটি তাদের সমস্যা, এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকে সেনেগালের কোনো শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন দেশটির অর্থনীতিতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। 

সেনেগালের বর্তমান ঋণসংকট ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান আলোচনার চাপের মধ্যেই এই ঘোষণা এলো। ফলে নতুন এই অস্থিরতা আইএমএফের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।গত কয়েক মাস ধরেই প্রেসিডেন্ট ফায়ে ও প্রধানমন্ত্রী সোনকোর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনে মানহানির মামলায় অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় সোনকো নিজে প্রার্থী হতে পারেননি। 

পরে তিনি ফায়ের পক্ষে সমর্থন দেন এবং নির্বাচনে ফায়ে জয়ী হন। সোনকো তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত হলেও ক্ষমতায় আসার পর ধীরে ধীরে দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। এখন প্রধানমন্ত্রী পদ হারানোর পর সোনকো কী পদক্ষেপ নেবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্চ মাসে তিনি বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ফায়ে যদি দলীয় নীতি থেকে সরে যান, তাহলে তার দল পাস্তেফ সরকার ছাড়তে পারে এবং আবার বিরোধী দলে ফিরে যেতে পারে। সেনেগালের জাতীয় পরিষদে পাস্তেফ দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে সরকারের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে নতুন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা