মে ৩১, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত কঠোর শর্তে শান্তিচুক্তি না হলে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ আবার শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তীব্র সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে কোনো চুক্তিতে ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দিতে হবে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অন্যতম প্রধান রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে।হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প সিদ্ধান্তের খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।
অন্যদিকে ইরানও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে চলমান যুদ্ধের অবসান নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। মার্কিন নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে চুক্তির খসড়াটি ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় দীর্ঘক্ষণ টেবিলে পড়ে ছিল।
কিন্তু গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরও তিনি এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক হুঙ্কার দিয়েছেন।তিনি শনিবার বলেন প্রয়োজনে ওয়াশিংটন আবারও যুদ্ধ শুরু করতে সম্পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও দাবি করেন যে এই ধরনের যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন বাহিনীর উন্নত অস্ত্রভাণ্ডার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
একই সময়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে যে তাদের চৌকস বাহিনী পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে এবং সর্বদা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে। এদিকে গত এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতি মোটামুটি বজায় থাকলেও মাঝেমধ্যে সীমান্ত এলাকায় ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে শনিবার দেশটির সেনাবাহিনী মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসী বাহিনীর একটি আধুনিক ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করার দাবি করেছে।
তবে একই সময়ে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক আলোচনা ও লেবানন সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও সক্রিয়ভাবে অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তিতে তাঁর দুটি প্রধান শর্ত রয়েছে যা ইরানকে মানতেই হবে। প্রথমত ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং দ্বিতীয়ত অবরুদ্ধ কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিতে হবে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুধু সেই চুক্তিতেই সম্মত হবেন যা এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন