রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা নিয়ে দিল্লির নতুন উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ১৬, ২০২৬, ০১:১০ পিএম

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা নিয়ে দিল্লির নতুন উদ্যোগ

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নতুন করে পর্যালোচনার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন’ সংক্রান্ত বিশেষ বক্তব্যের পর এই বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকার পাশাপাশি দেশের প্রধান শহরগুলোর জনসংখ্যার ধরন, অভিবাসন প্রবণতা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তাগত প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এই কমিটি।

গত ২৬ মে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকারের নেতৃত্বে এই বিশেষ কমিটি গঠন করে।ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন কেবল সাধারণ কোনো পরিসংখ্যানের বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক ভারসাম্য এবং প্রশাসনিক পরিকল্পনার সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এই উচ্চপর্যায়ের অবিচল কমিটিকে আগামী এক বছরের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত গবেষণা প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র য়ে জমা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই কমিটির কাজের অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আনুষঙ্গিক সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিটি ইতিমধ্যে তাদের প্রথম দাপ্তরিক বৈঠক সম্পন্ন করে একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে এবং আগামী মাসগুলোতে সদস্যরা মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহে বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করবেন।

এই কমিটির কাজের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকবে ভারত-বাংলাদেশ ও ভারত-পাকিস্তান সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল জেলাগুলো, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে এই জনসংখ্যাগত ইস্যু নিয়ে বারবার বিতর্ক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে এই পর্যবেক্ষণ শুধু সীমান্ত অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দেশের প্রধান নগর ও শিল্পকেন্দ্রগুলোকেও এই বিশেষ গবেষণার আওতায় আনা হয়েছে। দিল্লির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের রাজধানী দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, নয়ডা, গুরুগ্রাম, আহমেদাবাদ এবং পুনের মতো বড় বড় শহরগুলোতে দেশি-বিদেশি মানুষের আগমনের প্রবণতা বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অতীতে বিভিন্ন সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার এবং ভোটার তালিকায় অননুমোদিত ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্তির মতো গুরুতর বিষয়ে বারবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাই এই জনসংখ্যাগত বড় পরিবর্তনের মূল কারণগুলো সঠিকভাবে শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপের সুপারিশ করাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান মোদি সরকার। মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শনের সময় কমিটির সদস্যরা স্থানীয় জেলা প্রশাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবেন বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে