আগস্ট ১৩, ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
আর্কটিক মহাসাগর দিয়ে ইউরোপের সঙ্গে নতুন নৌবাণিজ্য পথ গড়ে তুলতে এগিয়ে যাচ্ছে চীন। আর্কটিক সিল্ক রোড নামে পরিচিত এই পথ ভবিষ্যতে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যকার পণ্য পরিবহনের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে।রাশিয়ার উত্তর উপকূল আর্কটিক অঞ্চলের নর্দার্ন সি রুট ব্যবহার করে চীনা জাহাজ ইউরোপে পণ্য পরিবহনের উদ্যোগ নিয়েছে। সুয়েজ খালপথের তুলনায় এই পথে যাত্রার সময় অনেক কম লাগতে পারে।
সম্প্রতি চীনা শিপিং কোম্পানি নিয়মিত কনটেইনার জাহাজ চলাচলের উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চীনের নিংবো বন্দর থেকে যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সস্টো বন্দরে জাহাজ যাবে রাশিয়ার উত্তর উপকূল দিয়ে। অনুকূল পরিস্থিতিতে এই পথে যাত্রার সময় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।বিশ্লেষকদের মতে, আর্কটিকের বরফ গলতে থাকায় নতুন এই নৌপথ ধীরে ধীরে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এশিয়া থেকে ইউরোপে পণ্য পরিবহনে প্রচলিত পথের তুলনায় নর্দার্ন সি রুট প্রায় ত্রিশ থেকে চল্লিশ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।এই পথ চীনের জন্য কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প নৌপথ খুঁজতে আগ্রহ বাড়ছে।
রাশিয়াও নর্দার্ন সি রুটের ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং চলতি বছর এই রুট দিয়ে তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে।তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও পরিবেশগত কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলা এবং জাহাজ চলাচল বাড়লে জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবুও এই উদ্যোগ সফল হলে সুয়েজ খালের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমতে পারে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন