অক্টোবর ১১, ২০২৫, ১১:০১ পিএম
দুই বছরের ইসরায়েলি আগ্রাসনে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা এখন এক ধ্বংসস্তূপের নগরী। ভয়াবহ এই হামলায় শুধু ঘরবাড়ি বা হাসপাতালই নয়, ধুলোয় মিশে গেছে শত শত মসজিদ, যার মধ্যে ছিল শত শত বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক স্থাপনাও। যে মিনার থেকে একদিন নামাজের জন্য সুমধুর আজানের ধ্বনি ভেসে আসত, তা এখন বোমার আঘাতে নিশ্চিহ্ন। কিন্তু মসজিদ ধ্বংস হলেও থামেনি ইবাদত। গাজাবাসীরা এখন সেই মসজিদের ধ্বংসস্তূপের ওপরই আজান দিচ্ছেন, জামাতে নামাজ আদায় করছেন।
দ্য ফিলিস্তিন ইনফরমেশন সেন্টারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজা উপত্যকা প্রায় মিনারবিহীন হয়ে পড়েছে। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস নিশ্চিত করেছে, গত দুই বছরে ইসরায়েলি বাহিনী উপত্যকার ১ হাজার ২৪৪টি মসজিদের মধ্যে ৮৩৫টিরও বেশি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে এবং আরও ১৮০টি মসজিদকে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৭০০ বছরেরও বেশি পুরোনো ঐতিহাসিক ‘গ্রেট ওমারি মসজিদ’-এর মতো স্থাপনাও।
গাজা শহরের শুজাইয়্যা এলাকার বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী আবু খালেদ আল-নাজ্জার তার শৈশবের ইবনে ওসমান মসজিদের ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, “আমি পঞ্চাশ বছর ধরে এখানে নামাজ পড়েছি। কখনো কল্পনাও করিনি, এমন দিন আসবে, যখন আমরা মসজিদ ছাড়া নামাজ পড়ব।”
আরেক বাসিন্দা মাহমুদ কান্দিল বলেন, “এই মসজিদটি (গ্রেট ওমারি মসজিদ) ছিল গাজার প্রাণকেন্দ্র। এখন ধুলো ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। মনে হচ্ছে তারা শুধু ভবনগুলো নয়, শহরের স্মৃতিও মুছে ফেলতে চায়।”মসজিদ ধ্বংস হলেও ফিলিস্তিনিদের বিশ্বাস ধ্বংস হয়নি। ৭৪ বছর বয়সী উম্মে ওয়ায়েল বলেন, “এখন আর মসজিদে যাওয়ার জায়গা নেই। তবে আমরা আমাদের ঘর থেকেই কুরআন পড়তে থাকব।
আমরা যেখানেই থাকি না কেন, আল্লাহ আমাদের কথা শোনেন।”যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, রেখে যাওয়া এই ধ্বংসযজ্ঞ গাজার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের ওপর এক গভীর ক্ষতচিহ্ন এঁকে দিয়েছে, যা পূরণ হতে হয়তো শত বছর লেগে যাবে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন