সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রায়ের তারিখ ঘিরে ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৩, ২০২৫, ০৯:৫৫ এএম

রায়ের তারিখ ঘিরে ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ আজ নির্ধারণ করা হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলাটি বর্তমানে রায়ের অপেক্ষার তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ ও এর আশেপাশের এলাকায় পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

পোশাকি বাহিনীর পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। ট্রাইব্যুনালের প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে এবং কঠোর তল্লাশির মাধ্যমেই কেবল আইনজীবী, সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে রায়ের দিন ঘোষণা ঘিরে যেন কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যেই এই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৩ অক্টোবর এই চাঞ্চল্যকর মামলার সমাপনী যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের বিচারের নজির তুলে ধরে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ সাজার দাবি জানান। অন্যদিকে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীদের পাল্টাপাল্টি যুক্তি উপস্থাপনের পর আদালত রায়ের তারিখ ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেন। মামলার বিচারিক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

এই মামলার অপর আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রসিকিউশন টিম শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা চাইলেও মামুনের বিষয়টি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। তার আইনজীবী আদালতের কাছে খালাস দাবি করেছেন। আজ রায়ের দিনক্ষণ নির্ধারণের পাশাপাশি রাজসাক্ষী হিসেবে সাবেক পুলিশ প্রধানের ভাগ্যে কী জুটছে তার ইঙ্গিতও মিলতে পারে বলে ধারণা করছেন আইনজ্ঞরা।