সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

স্ত্রীসহ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীনের ৩৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৩:২৩ পিএম

স্ত্রীসহ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীনের ৩৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ

মানিলন্ডারিং এবং অবৈধ সম্পদ স্থানান্তরের প্রচেষ্টার অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এবং তার স্ত্রী সিতারা আলমগীরের নামে থাকা ৩৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ আদালতের কাছে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামিরা তাদের ব্যাংক হিসাবগুলোতে রক্ষিত অর্থ উত্তোলন করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এছাড়া, এই ব্যাংক হিসাবগুলো ব্যবহার করে তারা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ পাচার বা মানিলন্ডারিং করতে পারেন এমন সম্ভাবনা রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ১৪ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ এর বিধি ১৮ এর বিধান অনুযায়ী এই ৩৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা জরুরি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।গত ১২ নভেম্বর তাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করে দুদক। মামলার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা ঘুস ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অপরাধলব্ধ অর্থের উৎস, আয়ের প্রকৃতি, অবস্থান, মালিকানা এবং নিয়ন্ত্রণ গোপন করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।

দুদকের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে দেশি-বিদেশি মুদ্রা স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে তারা মানিলন্ডারিং অপরাধ করেছেন। পদ্মা ব্যাংক (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক), যমুনা, আইএফআইসি ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকে নিজেদের ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের ৭৯টি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা হয়েছিল।

এসব হিসাবে সর্বমোট ২১৬ কোটি ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা এবং ৬,১৮৮ দশমিক ৫৯ মার্কিন ডলার জমা করা হয়। একই সময়ে উত্তোলন করা হয় ২০৯ কোটি ১৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা এবং ৬,০০০০ দশমিক ০২ মার্কিন ডলার। যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।