সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২০, ২০২৫, ১০:০৩ এএম

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় খারিজ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের মূল প্রতিপাদ্য: আপিল বিভাগ রায়ে স্পষ্ট করেছেন যে, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানসম্মত এবং বৈধ। তবে বাস্তবতার নিরিখে এর প্রয়োগ নিয়ে আদালত নির্দেশনা দিয়েছেন:

  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে।

  • চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পরবর্তী: এরপর থেকে সাংবিধানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা: প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এই ঐতিহাসিক রায়ে অংশগ্রহণকারী অন্য ছয় বিচারপতি হলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

আইনি লড়াই ও প্রেক্ষাপট: ২০১১ সালের ১০ মে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা (ত্রয়োদশ সংশোধনী) বাতিল করেছিলেন। দীর্ঘ ১৩ বছর পর গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এই ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি লড়াই শুরু হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক রিভিউ আবেদন করেন। গত ২৭ আগস্ট আপিল বিভাগ সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। দীর্ঘ শুনানির পর আজ এই চূড়ান্ত রায় এল।

কেন চতুর্দশ সংসদ থেকে কার্যকর? জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের জানান, সংবিধান অনুযায়ী সংসদ ভেঙে দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিধান রয়েছে। যেহেতু বর্তমান সংসদ এক বছরের বেশি সময় আগে ভেঙে গেছে, তাই কারিগরিভাবে এখন সংবিধান সম্মত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন সম্ভব নয়। এ কারণেই আবেদনকারীরা পরবর্তী নির্বাচন (চতুর্দশ) থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর করার আর্জি জানিয়েছিলেন, যা আদালত গ্রহণ করেছেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

  • ১৯৯৬: রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের মুখে বিএনপি সরকার সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করে।

  • ২০০৪: হাইকোর্ট এই ব্যবস্থাকে বৈধ ও সংবিধানসম্মত বলে রায় দেন।

  • ২০১১: আপিল বিভাগ এই ব্যবস্থা বাতিল করে, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিতর্কিত নির্বাচনের পথ তৈরি করে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক অবসরে যাওয়ার ১৬ মাস পর মূল রায় পরিবর্তন করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছিলেন।

আইনজীবীদের অবস্থান: শুনানিতে বিএনপির পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, জামায়াতের পক্ষে মোহাম্মদ শিশির মনির, বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষে ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান যুক্তি উপস্থাপন করেন।