ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫, ১০:৫১ এএম
বিদ্যমান অসৎ পন্থা, অযথা হয়রানি এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মানসিকতা নির্মূল করা না গেলে বিচার বিভাগ একদিন প্রান্তিক, অপ্রাসঙ্গিক ও অবিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে মনে করেন দেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
আইন বৃহত্তর রাজনীতির একটা অঙ্গ হলেও, বিচারকদের রাজনীতির ঊর্ধ্বে ওঠার প্রয়াস রপ্ত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন বিচার বিভাগের প্রধান।গতকাল সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে উচ্চপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ি অভিভাষণে তিনি একথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন,আমরা যদি ভেবে থাকি যে, বিচারপ্রার্থী জনগণের প্রতি অবহেলা করেও বিচার বিভাগ তার প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে পারবে
তাহলে আমরা প্রকৃত অর্থেই এখনো বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করছি।”তিনি জোর দিয়ে বলেন, অসৎ ও অসাধু বিচারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে জনসাধারণের সাংবিধানিক সব অধিকার সুরক্ষিত করার প্রধান নিয়ন্ত্রা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।বিচার বিভাগের বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্বের সমালোচনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন,বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্বে বিচার বিভাগ অসাংবিধানিক ক্ষমতা, অপশাসন ও রাষ্ট্রীয় কপট-কৌশলের অঘোষিত সহযোগী হয়েছে। দুঃশাসনের বলয়কে আবরণ দিয়েছেন অনেক বিচারক।
তিনি উল্লেখ করেন, অন্যায়-অবিচারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিচারকদের এই নৈতিক বিচ্যুতি জনসাধারণকে শেষ পর্যন্ত জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার অন্যতম অনুঘটক ছিল।প্রধান বিচারপতি তাঁর দায়িত্বকালের (গত বছর ১০ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ) অর্জনের কথা তুলে ধরে বলেন, সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও এদেশের জনগণ কোনোদিন পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন বিচার বিভাগের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি। তবে তার আমলে বিচার বিভাগের সংস্কারের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয় এবং সেই ধারাবাহিকতায়:
পৃথক সচিবালয়: বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় গঠনের অধ্যাদেশ জারি করা হয়, যা বিচার বিভাগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন বলে বিবেচিত।অন্যান্য পদক্ষেপ: বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র ও পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদায়ন-বদলি ও শৃঙ্খলায় আচরণবিধি প্রণয়ন এবং উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে আইন প্রণয়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের জন্ম ১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর। সংবিধানের ৯৬(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় চলতি বছর ২৭ ডিসেম্বর তার অবসরের তারিখ। তবে ওইদিন সুপ্রিম কোর্টে অবকাশকালীন ছুটি থাকায় আগামী ১৮ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতিকে বিদায়ি সংবর্ধনা দেবে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন