সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

এজলাসে বিচারককে যা বললেন আনিস আলমগীর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫, ০৮:৫২ পিএম

এজলাসে বিচারককে যা বললেন আনিস আলমগীর

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এই রায় দেন।

আদালতের এজলাস রুমে বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে আনিস আলমগীর এক নাটকীয় ও বিস্ফোরক বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার অধিকার এবং নিজের গ্রেপ্তারের পেছনে বহিরাগত ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেন।

বিচারকের উদ্দেশে নিজের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আনিস আলমগীর বলেন, তিনি তালেবানদের দ্বারা গ্রেপ্তারের অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন, ফলে তার মৃত্যুভয় চলে গেছে।

তিনি বলেন,আমি একজন সাংবাদিক হিসেবে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করি। বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে প্রশ্ন করেছি, শেখ হাসিনার আমলে করেছি। ড. ইউনূসের আমলে করব। ভবিষ্যতেও যারা ক্ষমতায় আসবে, তখনো করব। যারা আমাকে নতজানু করতে চায়, সরকারের গোলাম বানাতে চায়, সমস্যা তাদের।”তিনি আরও দাবি করেন, তিনি জুলাই মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবি করেছিলেন এবং ৩২ নম্বরে প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু হওয়ার সময়ও তা চলতেই থাকবে বলে সতর্ক করেছিলেন।

একপর্যায়ে আনিস আলমগীর বলেন, "ড. ইউনূস যদি সারা বাংলাদেশকে কারাগার বানাতে চান, তিনি বানাতে পারেন।" বিচারক তাকে থামিয়ে দেওয়ার পর তিনি পুনরায় বক্তব্য শুরু করেন এবং নিজের গ্রেপ্তারের পেছনের ষড়যন্ত্রের কথা বলেন।তিনি দেশের বাইরে অবস্থানরত দুই ইউটিউবারের দিকে ইঙ্গিত করে অভিযোগ করেন যে, তারা ফেসবুকে তাকে শায়েস্তা করার জন্য লেখেন। এরপর তারা একটি রাজনৈতিক দলকে প্রভাবিত করেন এবং সেই দল ড. ইউনূসকে প্রভাবিত করে তাকে গ্রেপ্তার করিয়েছে।

তিনি বলেন, ওই ইউটিউবাররা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য দিনের পর দিন বক্তৃতা রাখছেন, অথচ একমাত্র আমিই বলেছিলাম এভাবে চলতে থাকলে নির্বাচন পণ্ড হয়ে যাবে। তিনি কখনো নির্বাচন না চাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, তিনি সবসময়ই বলেছেন নির্বাচন দরকার।মামলার অন্য আসামিদের প্রসঙ্গে তিনি জানান, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন ছাড়া বাকিদের সঙ্গে তার কখনোই দেখা হয়নি। শাওনের সঙ্গেও বেশ কিছু বছর আগে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তার দেখা হয়েছিল।উল্লেখ্য, গতকাল রোববার সন্ধ্যায় আনিস আলমগীরকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।