ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫, ১০:৫৫ পিএম
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার ইন্সপেক্টর মুনিরুজ্জামান সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে আনিস আলমগীরকে কাঠগড়ায় উঠানো হয়। এ সময় তার বুকে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, হাতকড়া ও মাথায় হেলমেট ছিল। কাঠগড়ায় হেলমেট খুলে দিলে তাঁকে কাঁদতে দেখা যায়।
আদালতের অনুমতি নিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আনিস আলমগীর এক বিস্ফোরক বক্তব্য দেন। তিনি তার সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ইরান-ইরাক যুদ্ধ কাভারের সময় তালেবানদের হাতে গ্রেপ্তার হলেও তিনি ভয় পাননি, তাই মৃত্যুভয় তাকে তাড়াতে পারে না।ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার বিষয়ে তিনি বলেন:আমি একজন সাংবাদিক হিসেবে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করি। আমি খালেদা জিয়ার আমলে প্রশ্ন করেছি, শেখ হাসিনার আমলেও করেছি। এখনও করছি, পরেও করবো। একটা নির্দিষ্ট দল আমাকে গোলাম বানাতে চায়। কিন্তু আমি তাদের হালুয়া রুটি খাবো না, চাইও না। সাংবাদিক হিসেবে আমার কাজ ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। আমি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করবো।
আনিস আলমগীর তার গ্রেপ্তারের পেছনে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেন। তিনি দেশের বাইরে অবস্থানরত দুই ইউটিউবারের দিকে ইঙ্গিত করে অভিযোগ করেন, এরাই নির্বাচন বানচাল করতে চায়। এরা ভিউ ব্যবসা করে...এই দুই ব্যক্তি বিশেষ একটা রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করে। তারা যখন ড. ইউনূস সরকারকে গিয়ে বলেছে তখনই আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, আমাকে যে অভিযোগে এনেছে তা মিথ্যা। আমি যে কথাগুলো বলি সেগুলো এমনি এমনি আসেনি, প্রেক্ষিতে এসেছে।
তিনি বলেন, ড. ইউনূস যদি চান সারাদেশকে কারাগার বানায়ে দিতে পারেন। দেশ দোযখ বানায়ে দিতে পারেন। এ সময় বিচারক তাকে থামিয়ে দেন।রাষ্ট্রপক্ষ (আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী): তিনি শুনানিতে বলেন, সাংবাদিকতার আড়ালে আনিস আলমগীর কুচক্রী মহলের সঙ্গে জড়িত এবং দেশদ্রোহী কার্যক্রমে লিপ্ত। উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।
আসামিপক্ষ (আইনজীবী নাজনীন সুলতানা): তিনি রিমান্ডের বিরোধিতা করে বলেন, আনিস আলমগীর একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও শিক্ষক। কথা বলার স্বাধীনতা তার মৌলিক অধিকার। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করাই তার উদ্দেশ্য।উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাংবাদিক আনিস আলমগীরের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদের দায়ের করা এই মামলায় আনিস আলমগীর ছাড়াও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন: মারিয়া কিসপট্টা (ফ্যাশন মডেল) ও ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ (উপস্থাপক)।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন