সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ১১:৩৭ এএম

কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ বৃহস্পতিবার ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজ এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানাবেন। 

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আজ এই আদেশের মাধ্যমেই পলাতক থাকা এসব শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার বিচার প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামীম ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ শুনানি করেন। শুনানিতে তারা জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের হত্যার নির্দেশ দেওয়া, প্ররোচনা এবং উসকানির সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরেন। 

বিশেষ করে ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক অভিযোগ বিস্তারিতভাবে পড়া হয়। প্রসিকিউশন পক্ষ দাবি করে যে আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনার কারণেই জুলাই আন্দোলনে অনেক নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরে গেছে। শুনানি শেষে তারা আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান।অন্যদিকে পলাতক থাকা এসব আসামিদের পক্ষে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নিযুক্ত স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান শুনানিতে অংশ নেন। 

তারা দাবি করেন যে এই মামলার অভিযোগের সাথে তাদের মক্কেলদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই এই অভিযোগগুলো আনা হয়েছে। তারা আসামিদের এই মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য আজকের দিন অর্থাৎ ২২ জানুয়ারি ধার্য করেছিলেন। এই মামলার পলাতক থাকা অন্য আসামিরা হলেন বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।উল্লেখ্য যে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর এই সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। 

২৯ ডিসেম্বর তাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও পুলিশ তাদের স্থায়ী বা অস্থায়ী ঠিকানায় খুঁজে পায়নি। এরপর ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে ৮ জানুয়ারি হাজির হওয়ার দিন ধার্য ছিল। নির্ধারিত দিনে কেউ উপস্থিত না হওয়ায় আদালত তাদের পলাতক ঘোষণা করেন এবং তাদের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেন। আজকের আদেশের দিকে এখন সারাদেশের মানুষের চোখ কারণ জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের এটি একটি অন্যতম বড় ধাপ।