ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেওয়া আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে করা আপিলের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত বিষয়টি আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেছেন।
আদালতে প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।গত ১৭ নভেম্বর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ঐতিহাসিক এই রায় ঘোষণা করেছিলেন।
রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দুটি অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি অভিযোগে তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অন্য একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।
তবে প্রসিকিউশন মনে করছে, যে অভিযোগে তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় সেখানেও মৃত্যুদণ্ড পাওয়াই কাম্য। এ কারণেই সাজা বৃদ্ধির আবেদন জানিয়ে আপিল বিভাগে আটটি সুনির্দিষ্ট যুক্তিতে (গ্রাউন্ড) আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছিল, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকার ড্রোনের মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয়, হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিল। এমনকি আন্দোলনকারীদের `রাজাকার` বলে উস্কানি ও হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রায়ে প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষ করে রংপুরের আবু সাঈদ হত্যা এবং ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলে ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যার ঘটনায় সরাসরি অপরাধের দায়ভার আসামিদের ওপর বর্তায়।
উল্লেখ্য যে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্য এবং জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নাহিদ ইসলামসহ ৫৪ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। বর্তমানে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল উভয়ই পলাতক রয়েছেন এবং তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মামলা পরিচালনা করছেন। ২৫ ফেব্রুয়ারির এই শুনানি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের আইনি লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন