রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিচার শুরু আজ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ১০:২০ এএম

বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিচার শুরু আজ

আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দেড় দশকের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিচার আজ রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। 

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচারের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এবং এদিনই মামলার প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে। এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছিল।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মূলত তিনটি ভয়ংকর ও লোমহর্ষক অভিযোগ উত্থাপন করেছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে যে ২০১১ সালে র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে তিন বন্দিকে নিয়ে যাওয়ার পথে ঢাকা বাইপাস সড়কে পর্যায়ক্রমে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয় এবং এই পুরো প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউল আহসান। 

দ্বিতীয় অভিযোগটি আরও বেশি আতঙ্কজনক যেখানে বরগুনার বলেশ্বর নদীকে হত্যাকাণ্ডের ‘হটস্পট’ হিসেবে ব্যবহারের তথ্য দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে বন্দিদের ট্রলারে করে মাঝনদীতে নিয়ে বুক বা মাথায় বালিশ চেপে গুলি করা হতো এবং পরে লাশ গুম করতে পেট কেটে সিমেন্টের ব্লক বেঁধে নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হতো। এই পাশবিক পদ্ধতিকে ‘গেস্টাপো’ বা ‘গলফ’ কোডনামে অভিহিত করা হতো যেখানে অন্তত ৫০ জনকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তৃতীয় অভিযোগে তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় সাজানো ‘বন্দুকযুদ্ধের’ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। গুম থাকা ব্যক্তিদের গভীর রাতে সুন্দরবনের নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে গিয়ে নাটকীয়ভাবে হত্যা করার অন্তত তিনটি বড় অভিযানের কথা প্রসিকিউশন উল্লেখ করেছে। ‘অপারেশন নিশানখালী’, ‘অপারেশন মরা ভোলা’ ও ‘অপারেশন কটকা’ নামে পরিচালিত এসব অভিযানে জিয়াউল আহসান সরাসরি উপস্থিত থেকে অন্তত ৫০ জনকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ার এই সূচনাকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচারের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছে। আদালত কক্ষ ও এর আশেপাশে আজ বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।