এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
জুলাই আন্দোলনের সময় ট্রাকচালক সুজন হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। আজ রোববার ৫ এপ্রিল দুপুরে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও এটিইউর পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ গত ১১ মার্চ আদালতে এই নথিপত্র জমা দেন।ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন।
তিনি জানান যে আদালতের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামী ৮ এপ্রিল এই চাঞ্চল্যকর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ নেতাদের প্রত্যক্ষ নির্দেশ, পরিকল্পনা এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণেই জুলাই আন্দোলনে সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়। মাঠ পর্যায়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারিকুজ্জামান রাজিব, আসিফ আহম্মেদ সরকার এবং সলিমউল্লাহ সলুসহ স্থানীয় নেতারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এই মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের তালিকায় দেশের আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন অন্যতম। এছাড়া সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত এবং সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানকেও এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় ট্রাকচালক সুজনের ভাই রফিকুল ইসলাম একটি মামলা দায়ের করেন। সেই সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৭৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪৫০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য যাচাই করার পর অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট শেষ পর্যন্ত ৩২ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে চার্জশিট দাখিল করল। বিচারিক প্রক্রিয়ার এই নতুন ধাপে পৌঁছানোর ফলে সুজন হত্যা মামলাটি এখন আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হলো। আদালত পরবর্তী শুনানির দিন আসামিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলে এই মামলাটি বর্তমানে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন