রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,
কল্যাণপুরে ৯ হত্যা

হাসিনা-কামালসহ ৮ জনের শুনানি আজ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম

হাসিনা-কামালসহ ৮ জনের শুনানি আজ

রাজধানীর মিরপুরের কল্যাণপুরে ২০১৬ সালে কথিত জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আজ সোমবার অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ মোট আটজন আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। 

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে আজ এই আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার সূচি নির্ধারিত আছে।

মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই বিচারিক কার্যক্রমে ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী উপস্থিত থাকবেন। অভিযুক্ত আট আসামির তালিকায় প্রভাবশালী রাজনীতিকদের পাশাপাশি পুলিশের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তাদের নামও রয়েছে। 

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়াও সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, তৎকালীন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার শেখ মোহাম্মদ মারুফ হাসান, সাবেক সিটিটিসি প্রধান এবং পরবর্তীতে এসবি প্রধান মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, কৃষ্ণপদ রায় এবং মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন এই মামলার অন্যতম আসামি।এর আগে গত ৮ মার্চ প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম পলাতক ছয় আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী বা স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের আবেদন জানান। একই সঙ্গে শুনানির প্রস্তুতির জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে সময় প্রার্থনা করা হয়েছিল। 

সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই আজ অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়। বর্তমানে এই মামলার দুই গুরুত্বপূর্ণ আসামি সাবেক আইজিপি শহিদুল হক এবং ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী বাকি ছয়জন আসামি এখনো পলাতক হিসেবে বিবেচিত।ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই গভীর রাতে কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের জাহাজবাড়ি নামে পরিচিত একটি ভবনে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করে। 

‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নামক সেই অভিযানে পুলিশের গুলিতে নয়জন যুবক নিহত হন। তৎকালীন সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দাবি করেছিল, নিহতরা সবাই জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্য ছিল এবং সেখানে বসে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। তবে পরবর্তীতে এই অভিযান নিয়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে এবং দাবি করা হয় যে, এটি একটি সাজানো নাটক ছিল যার মাধ্যমে নিরপরাধ তরুণদের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে এখন বিচার প্রক্রিয়া শুরু করছে ট্রাইব্যুনাল।