শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ চৌধুরী ফের ৪ দিনের রিমান্ডে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ চৌধুরী ফের ৪ দিনের রিমান্ডে

ফের রিমান্ডে মাসুদ চৌধুরী

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পুনরায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল হোসেন দীর্ঘ শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।

এদিন চার দিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন আসামিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন। 

মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার নেপথ্যের রহস্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে তিনি আসামিকে আরও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। তবে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ও শুনানি শেষে আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার নথি ও এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় কয়েক হাজার ছাত্র-জনতা অবস্থান নিয়েছিলেন। সেই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন ভিকটিম দেলোয়ার হোসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিতভাবে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ করা হয়। এ সময় দেলোয়ার হোসেন গুরুতর গুলিবিদ্ধ হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ৬ জুলাই মিরপুর মডেল থানায় নিহতের স্ত্রী লিজা বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় তদন্তের সূত্র ধরে গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসভবন থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কেবল এই হত্যা মামলাই নয়, এর আগে সিন্ডিকেট গঠন করে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং মানবপাচারের অভিযোগে পল্টন থানায় দায়ের করা একটি মামলাতেও তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।

আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন জানালেও রাষ্ট্রপক্ষ তার তীব্র বিরোধিতা করে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন যে জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। বর্তমানে তাকে ডিবি পুলিশের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ছাত্র আন্দোলনের সময় মিরপুর এলাকায় শান্তিভঙ্গ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পেছনে আর কার কার ইন্ধন ছিল, রিমান্ডের এই পর্যায়ে তা বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।