এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক বহিষ্কৃত কর্মকর্তা মো. আফজাল নাছেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম আসামি আফজাল নাছেরকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন যে প্রাথমিক তদন্তে এই আসামি সরাসরি হত্যা মামলার ঘটনার সাথে জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্তে আরও জানা যায় যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কঠোর হস্তে দমন করার জন্য তাঁর নির্দেশে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হয়েছিল। এসব অভিযোগের সপক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও পুলিশ দাবি করেছে। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং নেপথ্যের কুশীলবদের শনাক্ত করতে আফজাল নাছের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন বলে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
উল্লেখ্য যে গত ৩০ মার্চ ভোরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের ১২ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে ডিবি পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং কয়েক দফায় তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সর্বশেষ উত্তরা পূর্ব থানার এই হত্যা মামলায় তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিলেন আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন আফজাল নাছের রিমান্ডে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মিছিলে অংশগ্রহণ করেছিলেন ভিকটিম মাহমুদুল হাসান। বিকেল আনুমানিক ৪টার সময় উত্তরা পূর্ব থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আজমপুর ফুট ওভার ব্রিজের নিচে আন্দোলনকারীরা পৌঁছালে আসামিদের নির্দেশে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অবৈধ অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে।
সেই সময় আসামিদের ছোড়া গুলি মাহমুদুল হাসানের শরীরে লাগলে তিনি সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে উত্তরা পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় যেখানে আফজাল নাছেরকে অন্যতম নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আদালত বর্তমানে এই মামলার তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে চার দিন সময় দিয়েছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন