এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের জন্য বড় আইনি স্বস্তি মিলেছে। জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ৫টি পৃথক মামলায় তার জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।
হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় খায়রুল হকের জামিন বহাল থাকল।আদালতে সাবেক এই প্রধান বিচারপতির পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।
শুনানির পর অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, জামিন বহাল থাকলেও এবিএম খায়রুল হক এখনই কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং সেগুলোতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ফলে ওই মামলাগুলোতে জামিন না পাওয়া পর্যন্ত তার কারামুক্তি সম্ভব হচ্ছে না।
এর আগে গত ৮ মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল মঞ্জুর করে চার মামলায় খায়রুল হককে জামিন দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে ১১ মার্চ দুদকের একটি মামলায়ও তিনি জামিন পান। রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল, যা দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ নিষ্পত্তি হলো।
মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুরুতে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। এরপর তার বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা দায়ের করা হয়।
অন্যান্য মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে শাহবাগ থানায় করা একটি মামলা। এ ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও বন্দর থানায় একই অভিযোগে আরও দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। পাশাপাশি গত ৪ আগস্ট প্লট জালিয়াতির মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকও একটি মামলা করে। নিম্ন আদালতে এসব মামলায় জামিন না পাওয়ায় তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন।
এবিএম খায়রুল হক ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। অবসরের পর তিনি তিন মেয়াদে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি কারাবন্দি অবস্থায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাকি দুটি মামলায় জামিন পেলে তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা থাকবে না।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন