শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

মিরপুরে বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার, হাইকোর্টে তদন্ত চেয়ে রিট

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ৩, ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

মিরপুরে বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার, হাইকোর্টে তদন্ত চেয়ে রিট

রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার একটি আবাসিক বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় উচ্চ আদালতে এক বিশেষ রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের প্রথিতযশা আইনজীবী শরীফ সরকার জনস্বার্থে এই সংবেদনশীল রিটটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করেন। 

এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর পেছনে কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আইনি নির্দেশনা জারির আরজি জানানো হয়েছে।সমাজ বা পরিবারে প্রবীণ নাগরিক ও মা-বোনদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা এবং তাদের সার্বিক জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধানতম স্তম্ভ।

এই বিশেষ জনস্বার্থমূলক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সুপরিচিত আইনজীবী ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন। 

এদিকে স্থানীয় পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি মো. হাসান বাসির গণমাধ্যমকে জানান যে প্রয়াত নুরজাহান বেগম মিরপুরের ওই এলাকায় তাঁর বিবাহিত মেয়ের অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা বাসায় দিনযাপন করতেন। পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে বৃদ্ধার বসবাসের কক্ষটি অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, ছিমছামহীন এবং মানবেতর পরিবেশের ছিল বলে দাপ্তরিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।একটি সুসংরক্ষিত বাসাবাড়ির ভেতরে এমন নিস্তব্ধ ও পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়কে স্পষ্ট করে।

পল্লবী থানা পুলিশ আরও জানায় যে বৃদ্ধার সন্তানেরা প্রত্যেকেই সমাজে অত্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হলেও মায়ের দেখভালের ক্ষেত্রে কোনো চরম অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা জানতে স্বজনদের ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গত ৩১ মে উদ্ধার হওয়া এই মৃতদেহের ময়নাতদন্তের যাবতীয় প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত ফরেনসিক প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর সঠিক সময়, প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করে পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।