বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পেছাল ১৬বার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১৭, ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পেছাল ১৬বার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৮ জুন নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। এই নিয়ে আলোচিত এই মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ১৬বারের মতো সময় পেল তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি। 

বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সেফাতুল্লাহর আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সুনির্দিষ্ট দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সিআইডি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন এই সময়সীমা নির্ধারণ করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রুকনুজ্জামান আদালতের এই আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

নিহত শরিফ ওসমান বিন হাদি ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও প্রধান মুখপাত্র ছিলেন।তিনি বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-আট আসন থেকে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় একদল দুর্বৃত্তের অতর্কিত গুলিবর্ষণে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। 

ঘটনার পরপরই তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

গুলির এই ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। পরবর্তীতে ওসমান হাদি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে মামলাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নিয়মিত হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। এই শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রাথমিক তদন্ত শেষে ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে গত ৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ বা ডিবি।

 কিন্তু ডিবির দেওয়া সেই অভিযোগপত্রের ওপর তীব্র আপত্তি জানিয়ে মামলার মূল বাদী আদালতে একটি নারাজি আবেদন দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বিজ্ঞ আদালত মামলাটি অধিকতর ও নিখুঁত তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন এবং তখন থেকেই সংস্থাটি ঘটনার তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।