শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

সংবিধান সংস্কার ও সংশোধনের পার্থক্য জানালেন তাজুল ইসলাম

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

সংবিধান সংস্কার ও সংশোধনের পার্থক্য জানালেন তাজুল ইসলাম

ছবি - সংগৃহীত

সংবিধানে এমন কিছু মৌলিক স্তম্ভ বা কাঠামো রয়েছে, যা সংসদ চাইলেও সংশোধন করতে পারে না। সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ের মাধ্যমে এই কাঠামো রক্ষা করা হয়। তবে এই কাঠামোর সংস্কার করা সম্ভব। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সংবিধান সংস্কার ও সংশোধনের পার্থক্যের ব্যাখ্যা দিয়ে এ কথা বলেন।তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন।

তাজুল ইসলাম ব্যাখ্যা করেন, যদি কেবল সংসদীয় সংশোধনীর মাধ্যমে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়, তবে ভবিষ্যতে তা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই সংশোধনী সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছিল বলেই তা বাতিল করা হয়। কেবল সংশোধনের পথে হাঁটলে সংবিধানের আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয়, বরং তা কিছু কসমেটিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে যা জাতির দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান করবে না।

গত ৫৪ বছরের রাষ্ট্রীয় সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সংস্কারের দাবিটি জোরালো হয়ে উঠেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সংস্কারের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ বা গণপরিষদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল, যারা সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু বর্তমান সরকার একটি রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে যা প্রচলিত সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে ছিল না, তাই সংবিধান সংস্কারের জন্য আলাদা আদেশের প্রয়োজন ছিল। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ ইতোমধ্যে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, যা সংবিধান সংস্কারের নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা তৈরি করেছে। জনগণ সচেতনভাবেই এই রায় দিয়েছে এবং এটি মেনে নিতে সবাই বাধ্য।

বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, দলটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের পরিবর্তে সংশোধন প্রক্রিয়ার দিকে যেতে চাইছে। তাদের প্রবল আপত্তি রয়েছে ‍‍`সংস্কার পরিষদ‍‍` নামকরণের বিষয়ে। তাজুল ইসলামের মতে, জুলাইয়ের রক্তাক্ত আন্দোলন কেবল একটি সাধারণ নির্বাচনের জন্য হয়নি, বরং রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল সংস্কারের জন্য হয়েছিল। রাষ্ট্রকে নতুন করে সাজানোর এই প্রক্রিয়াটি তাই সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সম্পন্ন করা উচিত।