আগস্ট ১, ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
রাজধানীর উত্তরার র্যাব-ওয়ান সদর দপ্তরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল বা আয়নাঘর পরিদর্শনের পর অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে অতীতে এই গোপন বন্দিশালায় বন্দি করে রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাকে ভারতে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। শনিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশন টিমের সদস্যদের সঙ্গে এই বন্দিশালা পরিদর্শনের সময় এই তথ্য জানানো হয়।
গোপন এই বন্দিশালার কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক তদন্ত চলছে।শনিবার বেলা এগারোটার দিকে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারসহ তিন বিচারপতি এবং প্রসিকিউশন টিমের সদস্যরা রাজধানীর উত্তরার র্যাব-ওয়ান দপ্তরে যান। সেখানে থাকা মোট উনত্রিশটি কক্ষ ঘুরে দেখার পর চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, গুম ও খুনের শিকার প্রায় আড়াই শতাধিক ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট সন্ধান এখনো মেলেনি, যার মধ্যে ইলিয়াস আলী ও সাজেদুল ইসলাম সুমন অন্যতম। এর আগে গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশিম আরমানকে এই সেলে আটকে রাখার বিবরণও খতিয়ে দেখা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করেন যে সংগৃহীত বিভিন্ন বর্ণনা, সাক্ষ্য ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এই গোপন সেলের কোনো একটি কামরায় বন্দি রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। এই বন্দিশালাগুলো ঠিক কী উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের আইনি জবাব দিতে হবে বলে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিদর্শনের সময় ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য বিচারক, প্রসিকিউটরগণ, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ছাড়াও গুম কমিশনের সদস্য এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন। গত একুশের জুলাই ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর এই প্রথম উচ্চপর্যায়ের বিচারকরা সরাসরি গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করলেন।আগামী দিনে বিচারিক কার্যক্রমে এই পরিদর্শনের তথ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন