বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জুলাই সনদের গেজেটে কি থাকছে জানুন বিস্তারিত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৩, ২০২৫, ০৫:০২ পিএম

জুলাই সনদের গেজেটে কি থাকছে জানুন বিস্তারিত

বহুল প্রত্যাশিত জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) এই আদেশ জারির পর সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়।

এই আদেশটি মূলত ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের ফলে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে প্রণীত জুলাই সনদের প্রস্তাবনাগুলো আইনি কাঠামোতে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করল।

এই আদেশের মূল ভিত্তি হলো গণভোট। জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে এই আদেশ এবং সনদে অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত অংশ গণভোটে উপস্থাপন করা হবে।

নির্বাচন কমিশনকে এই গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। এই গণভোট আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হবে।গণভোটে ভোটাররা নিম্নলিখিত ৫টি সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবের প্রতি 'হাঁ' অথবা 'না' ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন:১. নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার: জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন করা হইবে।

২. দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ও উচ্চকক্ষ: আগামী জাতীয় সংসদ দুই কক্ষ বিশিষ্ট হইবে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হইবে। সংবিধান সংশোধনী করিতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হইবে। ৩. রাজনৈতিক ঐক্যমতের প্রস্তাব বাস্তবায়ন: নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হইতে ডেপুটি স্পীকার ও কয়েকটি সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকারসহ ৩০টি ঐক্যমতের প্রস্তাব আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাস্তবায়নে বাধ্য থাকিবে। ৪. অন্যান্য সংস্কার বাস্তবায়ন: জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হইবে। ৫. সময়সীমা ও কার্যকারিতা: পরিষদ উহার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হইতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করিবে এবং ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে।

আদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো গণভোটের ফল ইতিবাচক (হ্যাঁ সূচক) হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন:

গঠন: গণভোটে ইতিবাচক ফল আসলে, সদ্য অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ এই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।ক্ষমতা ও মেয়াদ: পরিষদ উহার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হইতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে।

উচ্চকক্ষ গঠন: সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হইবার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত জোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতিতে একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হইবে। উচ্চকক্ষের মেয়াদ জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদের শেষ দিবস পর্যন্ত হইবে।

সদস্যের শপথ: নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ সংসদ-সদস্য হিসাবে শপথ গ্রহণের পর একই শপথ অনুষ্ঠানে পরিষদ-সদস্য হিসাবেও শপথ গ্রহণ করিবেন।

আদেশটিতে কার্যকারিতা দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

অবিলম্বে কার্যকর অনুচ্ছেদ: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ১২ ও ১৫ অনুচ্ছেদ গেজেট প্রকাশের সাথে সাথেই কার্যকর হয়েছে।

গণভোট সাপেক্ষে কার্যকর অনুচ্ছেদ: ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১৩ ও ১৪ অনুচ্ছেদ গণভোটের ইতিবাচক ফলাফলের পরই কার্যকর হবে।