নভেম্বর ১৬, ২০২৫, ১০:৩৩ পিএম
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে আগামীকাল সোমবার। এই ঐতিহাসিক রায়কে সামনে রেখে রবিবার সারা দেশের রাজপথ ছিল প্রতিবাদমুখর এবং উত্তপ্ত।
রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষ করে গত বছরের গণঅভ্যুত্থানে যারা স্বজন হারিয়েছেন এবং যারা গুরুতর আহত হয়ে এখনো বিভীষিকা বহন করছেন তারা এই রায়ের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছেন।
রবিবার দুপুরের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতা, আইনজীবী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা শেখ হাসিনার ফাঁসির দাবিতে একটি বড় শোডাউন করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সামনে থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলটি অ্যানেক্স ভবনের সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সমিতি ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে আইনজীবীরা স্লোগান দেন যে গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র কাম্য।
অন্যদিকে ঢাকার বাইরে দোহারে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার আয়োজনে একটি বিশাল লাঠি মিছিল বের করা হয় যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এছাড়া রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছেন যে রায় ঘোষণার দিন অর্থাৎ আগামীকাল সকাল থেকেই তারা ক্যাম্পাসে ও রাজপথে সরব অবস্থানে থাকবেন। ময়মনসিংহের গৌরীপুরেও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অগ্নিসন্ত্রাসের প্রতিবাদে এবং ফাঁসির দাবিতে জোরালো সমাবেশ করেছেন।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে গত বছরের সেই আন্দোলনে দমন-পীড়ন চালাতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী মারণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রায় চৌদ্দশ মানুষ নিহত হন যাদের বড় একটি অংশই ছিল ছাত্র বা তরুণ। এছাড়া বিক্ষোভ দমনে আগ্নেয়াস্ত্রের নজিরবিহীন ব্যবহার এবং বিচারবহির্ভূত আটকের ঘটনাও ঘটেছিল বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরাও সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ পনেরো বছরের স্বৈরশাসনের অবসানের পর এখন দেশের মানুষ ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় রয়েছেন। আন্দোলনকারী এবং সাধারণ নাগরিকদের একটাই দাবি যে অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় আসামিদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন