নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ০২:০৪ পিএম
পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার দিনে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে।
সোমবার দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানের সাবেক বাসভবন অভিমুখে বুলডোজার নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে ছাত্র-জনতার সঙ্গে মোতায়েন থাকা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একপর্যায়ে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এই সংঘর্ষে দুই পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন ছাত্র-জনতা আহত হয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর বারোটার দিকে ট্রাকে করে দুটি বুলডোজার মিরপুর রোডে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের মুখে এসে পৌঁছায়। 'জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ'সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা বুলডোজার দুটি নিয়ে আসেন এবং বুলডোজারে উঠে স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনকারীরা বাড়িটিকে 'ফ্যাসিবাদের আস্তানা' এবং 'ফ্যাসিবাদের আঁতুড়ঘর' আখ্যায়িত করে সেটি গুঁড়িয়ে দিয়ে নিশ্চিহ্ন করার দাবি জানিয়ে আসছেন। পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে তারা ফের বুলডোজার নিয়ে আসার চেষ্টা করেন।
এ সময় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মোতায়েন থাকা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা বুলডোজার দুটি প্রবেশে তাৎক্ষণিক বাধা দেন। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই ধরনের কাজ করতে দেওয়া হবে না বলে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়। বেলা একটার দিকে বাধার মুখে ছাত্র-জনতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পুলিশ ছাত্র-জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়।

সংঘর্ষ থামার পর পুলিশ বুলডোজার দুটিকে হোটেল এরামের বিপরীতে সরিয়ে দেয় এবং পুরো এলাকা কঠোর নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলে। বর্তমানে পুরো এলাকাজুড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনা সদস্য মোতায়েন রয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর পাঁচ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিক্ষুব্ধ জনতা প্রথমবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের এই বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এরপর চলতি বছরের পাঁচ ফেব্রুয়ারি 'বুলডোজার মিছিল' কর্মসূচি থেকে বাড়িটির অর্ধেকের বেশি অংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন