ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ০৩:২৯ পিএম
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজায় ইমামতি করেছেন তার বড় ভাই ডা. আবু বকর সিদ্দিক। জানাজার ঠিক আগে উপস্থিত লাখো মানুষের সামনে তিনি এক আবেগঘন বক্তব্য প্রদান করেন এবং জাতির কাছে একটি বিশেষ দাবি ও প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্যে আবু বকর সিদ্দিক তার ছোট ভাইয়ের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আবু বকর সিদ্দিক জানান যে ওসমান হাদির সন্তানের বয়স এখন মাত্র ৮ মাস। সন্তান হওয়ার পর হাদি তার বড় ভাইয়ের কাছে এমন একটি নাম চেয়েছিলেন যা বিপ্লবী চেতনা ও সাহসিকতার পরিচয় বহন করবে।
সেই অনুযায়ী হাদির সন্তানের নাম রাখা হয়েছিল ‘ফিরনাস’ যার অর্থ বিপ্লবী ও সাহসী। তিনি আক্ষেপ করে বলেন আজ সেই ছোট্ট সন্তানের দিকে তাকানো যাচ্ছে না এবং তার মা ছোট ছেলেকে হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট হাদির লাশ আজ বড় ভাইকে কাঁধে বহন করতে হচ্ছে যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবু বকর সিদ্দিক দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন আজ আপনাদের কাছে আমার কোনো বৈষয়িক দাবি নেই কিন্তু একটি প্রশ্ন জাতির কাছে রেখে গেলাম।
প্রকাশ্য দিবালোকে রাজধানী ঢাকায় গুলি চালিয়ে খুনিরা যদি পার পেয়ে যায় তবে এর চেয়ে লজ্জার আর কিছুই হতে পারে না। তিনি প্রশ্ন করেন হত্যাকাণ্ডের পর খুনিরা কীভাবে ৫-৭ ঘণ্টা সময় পার করে সীমান্ত অতিক্রম করল? প্রকাশ্য রাজপথে এমন একটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শহীদ হাদির বড় ভাইয়ের এই বক্তব্য উপস্থিত জনতাকে আরও উদ্বেলিত করে তোলে। জানাজায় আসা মানুষজন খুনিদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। উল্লেখ্য যে গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় হাদির ওপর হামলা চালানো হয়েছিল এবং দীর্ঘ লড়াই শেষে তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। জানাজা শেষে হাদিকে জাতীয় কবির পাশে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন