সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল হচ্ছে শাহবাগ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ০৪:৩২ পিএম

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল হচ্ছে শাহবাগ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই বিপ্লবের বীর সেনানী শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীর শাহবাগ এলাকা। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই হাজার হাজার মানুষ মিছিল নিয়ে শাহবাগে জড়ো হতে শুরু করেন।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে হাদিকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

দাফন শেষে সেখানে উপস্থিত ছাত্র-জনতা বিশাল বিশাল মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে অগ্রসর হন। বিকেল ৪টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ‘হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’ এবং বিভিন্ন বিপ্লবী স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এর আগে দুপুর ২টা ৩৩ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় (মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ) হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। জানাজায় দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সারাদেশ থেকে আসা হাজার হাজার সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জানাজার সময় পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ও শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।শাহবাগে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, হাদি হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও ঘাতকদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ থেকে শাহবাগ চত্বরটি শহীদ হাদির আদর্শে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত হবে।১. বীরের বিদায় হলো রাজকীয় সম্মানে। এবার খুনিদের উপযুক্ত শাস্তির পালা। ২. হাদির রক্ত বৃথা যাবে না। শাহবাগ প্রমাণ করছে এদেশের মানুষ বিপ্লবের চেতনা ভোলেনি। ৩. জাতীয় কবির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আমাদের বীর।

আল্লাহ ওনাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। ৪. জানাজা থেকে শাহবাগ—জনসমুদ্র বলে দিচ্ছে হাদি কতটা জনপ্রিয় ছিলেন। ৫. এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে সকল অন্যায় ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ৬. "হাদির হত্যার প্রতিটি ফোঁটা রক্তের হিসাব দিতে হবে ঘাতকদের। ইনশাআল্লাহ বিচার হবেই। ৭. শান্তিপূর্ণভাবে বিচার দাবি করুন, কোনো অপশক্তি যেন এই আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে নাশকতা করতে না পারে।