ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ০৮:৩১ পিএম
২০ ডিসেম্বর শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে দাফন করার পর থেকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ চত্বরটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই স্থানটি কেবল কবির চিরনিদ্রার স্থান নয়, বরং এটি দেশের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্বদের শেষ ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।
১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বিখ্যাত গান— “মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই এই ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়।
এরপর থেকে এই চত্বরটি একটি জাতীয় মর্যাদাপূর্ণ স্থানে রূপ নেয়।কবির সমাধির আশেপাশে সমাহিত আছেন দেশের শিল্প ও শিক্ষা জগতের দিকপালরা।
যাঁরা বাংলাদেশের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামো নির্মাণে অবদান রেখেছেন:শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন: আধুনিক বাংলাদেশি চিত্রকলার অগ্রদূত। দুর্ভিক্ষ ও মেহনতি মানুষের চিরন্তন রূপকার জয়নুল আবেদিনকে কবির পাশেই সমাহিত করা হয়েছে।পটুয়া কামরুল হাসান: জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশাকার ও প্রখ্যাত এই শিল্পী তাঁর ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে চিরস্থায়ী করেছেন।প্রফেসর আব্দুল মাতিন চৌধুরী: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং একজন প্রথিতযশা পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ।প্রফেসর মুজাফফর আহমদ চৌধুরী: দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাবেক উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যতম রূপকার।
সবশেষ ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের অগ্রনায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে এই চত্বরেই দাফন করা হয়। দাফনের পর তাঁর কবরে একটি রক্তজবা গাছ রোপণ করেছেন তাঁর সহযোদ্ধারা। হাদির সংযুক্তি এই ঐতিহাসিক স্থানটির প্রতীকী গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে—যেখানে কবির বিদ্রোহ আর হাদির বিপ্লব একীভূত হয়েছে।প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই চত্বরে আসেন মহান ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। এটি এখন কেবল একটি গোরস্থান নয়, বরং জাতির সাংস্কৃতিক ও জাতীয়তাবাদী চেতনার এক জীবন্ত স্মৃতিস্তম্ভ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন