ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ১১:০৮ এএম
সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি সেনাসদস্যের জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান আজ সম্পন্ন হয়েছে। রোববার ২১ ডিসেম্বর সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে এই বীর শহীদদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শেষে নিহত সেনাসদস্যদের মরদেহে রাষ্ট্রপতি এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এরপর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকেও নিজ নিজ বাহিনীর প্রধান ও প্রতিনিধিরা শহীদদের কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধার অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের মরদেহ সামরিক হেলিকপ্টারযোগে তাদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জানাজার নামাজের আগে উপস্থিত মুসল্লি ও সামরিক কর্মকর্তাদের সামনে নিহত ছয় বীর সেনাসদস্যের সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত ও কর্মকাল পাঠ করে শোনানো হয়। এ সময় বিউগলের করুণ সুরে পুরো সেনানিবাস এলাকায় এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত সকলে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। নিহত এই বীর সেনাসদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নাটোরের করপোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মন্ডল, রাজবাড়ীর সৈনিক শামীম রেজা, কিশোরগঞ্জের মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং গাইবান্ধার লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া।
গত শনিবার সকালে তাদের মরদেহ বহনকারী একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকায় পৌঁছালে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তা গ্রহণ করেন।উল্লেখ্য যে গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি লজিস্টিকস বেইসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী অতর্কিত ড্রোন হামলা চালায়। এই নজিরবিহীন হামলায় ঘটনাস্থলেই দায়িত্ব পালনরত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী প্রাণ হারান এবং এক নারী সেনাসদস্যসহ মোট আটজন আহত হন।
আহতদের মধ্যে দিনাজপুরের সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেনসহ অন্যদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের এই বীর সন্তানদের আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে। রাষ্ট্রীয় সম্মাননা শেষে আজ বিকেলের মধ্যেই শহীদদের নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় দাফন করার কথা রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন