ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৫:২০ পিএম
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর খুনিদের নিরাপদে সীমান্ত পার করে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত নেটওয়ার্কের তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তে উঠে এসেছে যে খুনিদের পালানোর এই পুরো ব্যবস্থাপনায় নেপথ্য কারিগর ছিলেন।
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী। তাকে এই কাজে মাঠ পর্যায়ে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন তার ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলাম।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ইতোমধ্যে আমিনুলকে গ্রেপ্তার করেছে এবং এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে যে গত ১২ ডিসেম্বর পুরানা পল্টনে হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পরপরই প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে দেশান্তরি করার পরিকল্পনা আগে থেকেই করা ছিল। তারা মোটরসাইকেল যোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে একাধিক যানবাহন বদলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে পৌঁছান। সেখান থেকেই তারা অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যান। মজার বিষয় হচ্ছে যুবলীগ নেতা তাইজুল নিজে তখন ভারতে অবস্থান করলেও সেখান থেকে ফোনে পুরো বিষয়টি সমন্বয় করেন। তিনি হালুয়াঘাট সীমান্তের মানব পাচারকারী ফিলিপ স্নালের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে তার ভগ্নিপতি আমিনুলকে নির্দেশ দেন দ্রুত যোগাযোগ করার জন্য।
আমিনুলই শেষ পর্যন্ত ফিলিপের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং খুনিদের পার করে দিতে ৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন।গোয়েন্দা পুলিশ জানায় যে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফয়সাল ও আলমগীরের অবস্থান সর্বশেষ হালুয়াঘাট সীমান্তে পাওয়া গিয়েছিল। পরবর্তীতে সেখানে অভিযান চালিয়ে ফিলিপের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করলে জানা যায় যে তারা টেলিভিশনের সংবাদ দেখে পরে বুঝতে পেরেছেন যাদের পার করেছেন তারা ঢাকায় বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে এসেছে। এরপরই মূল পাচারকারী ফিলিপ আত্মগোপনে চলে যান। ডিবি পুলিশ আমিনুলকে গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমিনুল স্বীকার করেছেন যে তাইজুলের নির্দেশেই তিনি খুনিদের পালানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।উল্লেখ্য যে গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে নির্বাচনী প্রচারণার সময় শরিফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি সেখানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গণঅভ্যুত্থানের এই সম্মুখযোদ্ধার মৃত্যুতে পুরো দেশ শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে এবং খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে। পুলিশ জানিয়েছে যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য মূল আসামিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন