শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য প্রকাশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

আগস্ট ২৪, ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য প্রকাশ

ছবি : সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, সুচারু নজরদারি, হামলা পরিচালনা এবং পরবর্তীতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পুরো বিবরণ সামনে এসেছে। 

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিবিড় তদন্তে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলবদের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।  তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় যে হামলার সুনির্দিষ্ট কয়েক দিন আগে থেকেই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে হাদির নিয়মিত চলাচল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল।  সংগৃহীত বিবরণ অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ এবং মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ আলমগীর শেখ সুনির্দিষ্ট মানবপাচারকারী নেটওয়ার্কের সহায়তা নিয়ে দেশের সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। 

পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযানে তারা গ্রেপ্তার হন। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ছদ্মবেশ ধারণ করে হামলাকারীরা অত্যন্ত সুকৌশলে হাদির কাছাকাছি পৌঁছায় এবং মতিঝিল ও পল্টন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার কিছুদিন পরেই তার মৃত্যু হয়।  প্রাথমিক অভিযোগপত্র দাখিলের পর বাদীপক্ষের নারাজি আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)।

বর্তমানে সিআইডির পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা, অর্থের উৎস, অস্ত্র সরবরাহকারী এবং সীমান্ত পারাপারের নেপথ্যে সহযোগিতাকারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া এবং বন্দি প্রত্যর্পণের জটিলতা কাটিয়ে অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে নিহতের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো।