জানুয়ারি ১, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ক পুনরুজ্জীবনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি মনে করেন সার্কের চেতনা এখনো ফুরিয়ে যায়নি বরং এটি যথেষ্ট জাগ্রত ও বহাল রয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে আসা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিকে তিনি এই চেতনার বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।
বুধবার এই আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা তার এই দৃঢ় অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন যা জাতীয় রাজনীতি ও কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ে শ্রদ্ধা জানাতে পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান এবং মালদ্বীপের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা ঢাকায় এসেছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর এবং ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। জানাজায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় এবং বিদেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণকে ড. ইউনূস আঞ্চলিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা আগত অতিথিদের কাছে একই বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন যে যেকোনো উপায়ে সার্ককে আবার সক্রিয় করতে হবে। তিনি বলেন আঞ্চলিক নেতারা একজন নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যেভাবে একত্রিত হয়েছেন তা স্পষ্টভাবে সার্কের টিকে থাকার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে। ড. ইউনূস প্রতিনিধিদের বলেন আমাদের এই সার্কের চেতনাকে যে কোনো মূল্যে সংরক্ষণ করতে হবে এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বিদেশি বিশিষ্টজনেরাও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জানাজায় মানুষের বিশাল অংশগ্রহণ এবং শৃঙ্খলার প্রশংসা করেছেন যা তাদের অভিভূত করেছে।
বিদেশের এই প্রতিনিধিরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। সফরত অতিথিরা স্বীকার করেছেন যে তারা আগে কখনো এত বড় জানাজা এবং মানুষের এমন আবেগ দেখেননি। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এই ভ্রাতৃত্ববোধ সার্ককে আবার নতুন করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে ড. ইউনূস মনে করেন। দেশের জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সার্ককে শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি বলে সরকারি ভাষ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন