জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ১০:২৯ এএম
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে অনেকেই দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার আভাস পেয়েছিলেন। তবে সেই আশার গুড়েবালি পড়তে সময় লাগেনি দুই দিনও।
বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের ‘ভুয়া ও বানোয়াট’ অভিযোগকে পুঁজি করে আইপিএল থেকে টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি প্রমাণ করেছে যে দিল্লির ‘ঢাকা নীতি’ আদতে বদলায়নি।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের মতে, ভারতের এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের প্রতি তাদের দীর্ঘমেয়াদী শত্রুভাবাপন্ন নীতিরই বহিঃপ্রকাশ।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এম শহীদুজ্জামান বলেন, একটি শত্রু দেশ আরেকটি শত্রু দেশের সঙ্গে যা করে, ভারত আমাদের সঙ্গে ঠিক তাই করছে। মোস্তাফিজকে বহিষ্কারের মাধ্যমে তারা আসলে বাংলাদেশকে টার্গেট করেছে।” তিনি আরও মনে করেন, দিল্লি তার কৌশলগত স্বার্থ হাসিলের জন্য বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারে, যার মূল লক্ষ্য বাংলাদেশকে চীন ও পাকিস্তান থেকে দূরে রাখা।
উল্লেখ্য, উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর পাশাপাশি কংগ্রেস ও শিবসেনার মতো রাজনৈতিক দলগুলোও মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল। এমনকি কেকেআর মালিক শাহরুখ খানকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে তাঁকে দল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয় বিজেপি নেতারা। বর্তমান আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর প্রভাবেই বিসিসিআই এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া কেকেআর-কে এই নির্দেশ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকদের মতে, জয়শঙ্করের সফর ছিল কেবলই কৌশলগত। ভারতের সমাজ ও রাজনীতিতে বাংলাদেশ বিরোধী যে মনোভাব তৈরি হয়েছে, মোস্তাফিজ ইস্যু তারই প্রতিফলন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, দিল্লির এই পদক্ষেপগুলোকে রাজনৈতিকভাবে দেখার সুযোগ কম। বর্তমান পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইপিএল বয়কটের ডাক উঠেছে এবং ভারতের এই দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন