শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

ফেব্রুয়ারিতে দুই দফায় ৮ দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

ফেব্রুয়ারিতে দুই দফায় ৮ দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ

ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই সরকারি চাকরিজীবীরা টানা চার দিনের ছুটি কাটানোর একটি বড় সুযোগ পাচ্ছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে। এই ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষায় সরকার আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। ক্যালেন্ডারের এই হিসাব অনুযায়ী বুধবার ছুটির পর ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার এক দিন যদি কেউ ছুটি নিতে পারেন তবে তিনি টানা চার দিনের অবকাশ পাবেন। 

কারণ এর ঠিক পরের দুই দিন ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে মাত্র এক দিনের ব্যক্তিগত ছুটি যোগ করলেই সরকারি কর্মীরা পরিবার নিয়ে দীর্ঘ সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

এদিকে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেও মিলছে একই ধরণের ছুটির হাতছানি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার ইতোমধ্যে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন । 

যে ভোটারদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ভোট প্রদান নিশ্চিত করতে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আর ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিনটি আগে থেকেই সাধারণ ছুটির তালিকায় ছিল। এই দুই দিনের ছুটির পরপরই ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় এই দফাতেও মোট চার দিনের একটি বড় ছুটি তৈরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই দুই দফায় ৮ দিন ছুটির আমেজ থাকছে সরকারি দপ্তরগুলোতে।

তবে সব সরকারি চাকুরিজীবী এই ছুটির আওতায় থাকছেন না। বিশেষ করে নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এবং জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর জন্য এই ছুটি কার্যকর হবে না। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব আরও জানান যে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের সুবিধার্থে ১০ ফেব্রুয়ারিও সাধারণ ছুটি থাকবে যাতে তারা সঠিক সময়ে বাড়ি গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের বার্ষিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী এ বছর মোট ২৮ দিন সরকারি ছুটি রয়েছে যার মধ্যে ১৪ দিন সাধারণ এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে নির্ধারিত। ফেব্রুয়ারির এই ছুটিগুলো চাকরিজীবীদের জন্য বাড়তি পাওনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বাস্তবতা হলো এই ছুটির ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি দাপ্তরিক কাজে কিছুটা স্থবিরতা আসতে পারে তবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটকেন্দ্রে জনবল নিয়োগের বিষয়টি মাথায় রেখে ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা এই ছুটির পরিবেশ নির্বাচনী আমেজকে আরও উৎসবমুখর করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।