শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ইতিহাসের তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়: প্রধান উপদেষ্টা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ইতিহাসের তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়: প্রধান উপদেষ্টা

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন। ড. ইউনূস বলেন যে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন এবং ঐতিহাসিক ছয় দফার ধারাবাহিকতায় উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের পথ সুগম করেছিল। 

এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতি তাদের প্রকৃত মুক্তির স্বাদ পাওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিল।প্রধান উপদেষ্টা তার বাণীতে উল্লেখ করেন যে তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসন ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালের জানুয়ারি মাসজুড়ে ছাত্র জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল। 

সকল শ্রেণি পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ২৪ জানুয়ারি সেই আন্দোলন এক বিশাল গণবিস্ফোরণে রূপ নেয়। সরকারের সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে সংগ্রামী জনতা যখন মিছিল বের করে ।

তখন পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান মল্লিক। মতিউরের সাথে সেদিন মকবুল ও আনোয়ারসহ আরও অনেক বীর সন্তান প্রাণ বিসর্জন দেন। তাদের এই আত্মত্যাগই পরবর্তীকালে স্বৈরশাসকের পতন নিশ্চিত করেছিল।ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট টেনে বলেন যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রামে শহীদদের আত্মত্যাগ তরুণ সমাজকে অফুরন্ত সাহস জুগিয়েছে। শহীদদের বীরত্বগাথা আজও আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অনুপ্রাণিত করে। 

স্মৃতিবিজড়িত এই দিনে তিনি সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের রূহের মাগফেরাত কামনা করেন। প্রধান উপদেষ্টা দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান যেন সবাই মিলে গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত মূল্যবোধ ধারণ করে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলেন।অধ্যাপক ইউনূস আরও মনে করেন যে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন প্রজন্মের উচিত দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সোচ্চার থাকা।

 উনসত্তরের সেই গণজাগরণ আমাদের শিখিয়েছে যে ঐক্যবদ্ধ জনতার শক্তির সামনে কোনো স্বৈরাচারই টিকে থাকতে পারে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশ সামনের দিনগুলোতে একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায় সেই লক্ষ্যে কাজ করার জন্য তিনি সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।