ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী মাঠের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, এবারের নির্বাচনের প্রতিটি স্তরেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে এবং প্রায় প্রতিটি বড় রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান নির্বাচনের এই চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি বলেন যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই মাঠ পর্যায়ে প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচার চালানো, নির্ধারিত সীমার বাইরে জনবল ও প্রচার সামগ্রী ব্যবহার এবং ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে আচরণবিধি ভঙ্গ করছেন।
টিআইবি তাদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে যে বড় দলগুলোর অনেক প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকরা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র (লেভেল প্লেইং ফিল্ড) নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। সংস্থাটির মতে, যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কারণ দর্শানোর নোটিশ বা জরিমানা করছে, তবে তা অপরাধের মাত্রার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
টিআইবি মনে করে যে আচরণবিধি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনের শক্ত অবস্থানের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে সরকারি ও প্রভাবশালী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনের এক ধরনের জড়তা বা নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে যা একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় যে নির্বাচনী প্রচারে অর্থ ও পেশীশক্তির প্রভাব আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ব্যয়সীমা লঙ্ঘনের বিষয়টি চরম আকার ধারণ করেছে।
টিআইবি দাবি করেছে যে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো এবং ভোটকেন্দ্রে আসার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরির মতো ঘটনাও অনেক জায়গায় রেকর্ড করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে কমিশনকে কেবল কাগুজে আইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠ পর্যায়ে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। অন্যথায় নির্বাচনের ফলাফল ও প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে আস্থার সংকট তৈরির পাশাপাশি গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হতে পারে বলে সতর্ক করেছে টিআইবি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন