ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাফিয়া সিন্ডিকেটের পতন ঘটিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন। বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার কঠোর বার্তা দেন। ব্যবসায়ীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রমজানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এই মাসকে কেবল মুনাফা লাভের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন না।
পণ্যমূল্য যাতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান যে বর্তমান সরকার অনাচার ও অনিয়মের সকল সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিনে বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচারিত এই ভাষণে তিনি সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারগুলো দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন।
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং গত জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকারকে যাত্রা শুরু করতে হয়েছে। তবে জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কোনো দলীয় প্রভাব বা জোরজবরদস্তি নয়, বরং আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি। সারা দেশে জুয়া ও মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইতিমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
দেশকে একটি নিরাপদ ও মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে প্রতিটি নাগরিকের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে দলটির কোনো সংসদ সদস্য সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স ফ্রি বা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করবেন না এবং সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্লট সুবিধা গ্রহণ করবেন না।
সাধারণ মানুষের প্রতি কৃচ্ছ্রতা সাধনের আহ্বান জানানোর আগে তিনি নিজের দলের মন্ত্রী ও এমপিদের মাধ্যমেই এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া রমজান মাসে রোজাদারদের সুবিধার্থে ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সরকারি অফিস-আদালতে অপচয় রোধ করার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী সারা দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি মনে করেন, রেল ব্যবস্থাকে আধুনিক, সুলভ ও নিরাপদ করা গেলে শহরকেন্দ্রিক জনচাপ কমবে এবং মানুষ নিজ জেলায় থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য বা অফিস করার সুযোগ পাবে। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার ওপরও তিনি জোর দেন।
বর্তমান যুগকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি তরুণ সমাজকে মেধা ও জ্ঞানে যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য সব ধরনের সরকারি সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। পরিশেষে তিনি স্পষ্ট করেন যে যারা ভোট দিয়েছেন বা দেননি, সবার অধিকার সমান এবং দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়াই বিএনপির মূল লক্ষ্য।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন