বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি সর্বস্তরের শ্রদ্ধা

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ১০:৩৪ এএম

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি সর্বস্তরের শ্রদ্ধা

শহীদ মিনারে মানুষের ঢল

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছে সর্বস্তরের মানুষ। শনিবার ভোর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দলে দলে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হতে থাকেন। 

খালি পায়ে ও বিনম্র শ্রদ্ধায় তারা শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন। একুশের শোকের আবহ ফুটিয়ে তুলতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেকের পরনেই ছিল সাদা-কালো রঙের পোশাক।

প্রথম প্রহরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জনস্রোত আরও বৃদ্ধি পায়। মানুষের এই বিশাল সারিতে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে ধীরপদে শহীদ মিনারের অভিমুখে যাত্রা করেন। 

এ সময় আজিমপুর কবরস্থানেও ভাষা শহীদদের প্রতি দোয়া ও শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন রাস্তাগুলো একুশের আল্পনায় রঙিন হয়ে ওঠে এবং পুরো এলাকায় এক ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।এর আগে একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রপতির পর রাত ১২টা ৮ মিনিটে জাতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার মন্ত্রিসভার সদস্যবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি এবং জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। রাষ্ট্রীয় এই আয়োজনের মাধ্যমে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিক পর্বের সূচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর পর জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১-দলীয় জোটের সংসদ সদস্য ও শীর্ষ নেতারা শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর যখন শহীদ মিনার সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, তখন থেকেই সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় শুরু হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে সমগ্র এলাকাটি নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিগ্নে তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন।